মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

টকশোতে ‘সত্য বলায়’ দুই নার্সকে শোকজ!

আনিসুর রহমান
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ জুন, ২০১৯
  • ৫৫ বার পঠিত

সম্প্রতি ৭১ টেলিভিশনে নার্সিং সেক্টরে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সত্য কথা বলতে গিয়ে রোষানলে পড়েছেন দুই নার্স নেতা। তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া টকশোতে অংশগ্রহণ করে অসত্য ও বিভ্রান্তকর তথ্য উপস্থাপন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। গত ৩ জুন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) শিরীনা দেলহুর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ কারণ দর্শাও নোটিশ জারি করা হয়। কারণ দর্শানো দুই নার্স নেতা হলেন বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসমত আরা ও স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের (স্বানাপ) মহাসচিব ইকবাল হোসেন সবুজ। বিএনএ ও স্বানাপের নেতা হিসেবে টকশোতে অংশগ্রহণ করলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত নার্স হিসেবে এ দুজনকে শোকজ করা হয়েছে। ইসমত আরা বর্তমানে সেবা মহাবিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক (নিজ বেতনে) ও ইকবাল হোসেন সবুজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ হিসেবে কর্মরত।

কারণ দর্শানো নোটিশে যা বলা হয়

আপনি … (নাম, পিতার নাম,পদবি ও কর্মস্থল) গত ২৩ মে সরকারের অনুমতি ব্যতীত ৭১ টিভির টকশোতে অংশগ্রহণ করেন। আপনি উক্ত টকশোতে অসত্য ও বিভ্রান্তকর তথ্য উপস্থাপন করেন, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গত ২৭ মে স্মারকে অত্র অধিদফতরকে অবহিতকরণপূর্বক আপনার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।

সরকারের অনুমতি ছাড়া টিভির টকশোতে অংশগ্রহণ করা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯-এর পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী শৃংখলা বিধির পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকারের অনুমতি ছাড়া টকশোতে অংশগ্রহণ করে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে কেন আপনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে ব্যাপারে সাত কর্মদিবসের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অধিদফতরকে অবহিত করার নির্দেশ প্রদান করা হলো।

যা বললেন নার্স নেতারা

কারণ দর্শাও নোটিশের ব্যাপারে জানতে চাইলে এ দুই নার্স নেতা বলেন, ‘তারা স্বেচ্ছায় টকশোতে যাননি। সমসাময়িক ইস্যুতে টকশোতে অংশগ্রহণের জন্য তাদের (বিএনএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও স্বানাপ মহাসচিব হিসেবে) ৭১ টেলিভিশন থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। টকশোতে নার্সিং সেক্টরে দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি, নিয়োগ ইত্যাদি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে উপস্থাপিকার প্রশ্নের জবাবে নার্সিং সেক্টরের বৃহত্তর স্বার্থে কী কী করণীয় সে সম্পর্কে তারা মতামত ব্যক্ত করেন। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার কারণে কিছু কিছু ক্ষেতে যোগ্যরা বঞ্চিত হচ্ছে বলে তারা জানান।

বিএনএনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসমত আরার কাছে জানতে চাইলে আজ রোববার সন্ধ্যায়  তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নার্সদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ৭১ টিভির আমন্ত্রণে তিনি নার্স নেতা হিসেবে অংশগ্রহণ করে সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যা ও সমস্যা থেকে উত্তরণের ব্যাপারে উপস্থাপিকার প্রশ্নের জবাব দেন।‘

উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ‘নার্সদের বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানোর জন্য নীতিমালা নেই। নার্সিং সেক্টরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নার্সদের স্পেশালাইজড ট্রেনিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। নীতিমালা না থাকায় সে সুযোগে অনেক যোগ্য নার্স বঞ্চিত হন । এ কারণে নীতিমালা হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। এ ছাড়া উপস্থাপিকার প্রশ্নের জবাবে আরও কিছু প্রসঙ্গ উঠে আসে।’

একই সুরে কথা বলেন স্বানাপ মহাসচিব ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে নার্সিং সেক্টরকে আধুনিকায়ন ও দুর্নীতিমুক্ত করাতে সরকারের সহায়ক শক্তি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে টকশোতে উপস্থাপিকার প্রশ্নের জবাবে কিছু অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেন তিনি।’

শোকজে ক্ষুব্ধ সাধারণ নার্সরা

এই দুই নার্স নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শাও নোটিশ জারি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন সাধারণ নার্সরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কয়েকজন নার্স বলেন, ‘সত্য কথা বলার অপরাধে এই দুই নার্স নেতার বিরুদ্ধে শোকজ জারি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো অনিয়মের ব্যাপারে কেউ মুখ না খোলে সেজন্য হয়রানি করতেই এ শোকজ।’

নার্সদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে একজন সিনিয়র নার্সকে সেই হাসপাতালের পরিচালক যৌন হয়রানি করলে ওই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হন এই দুই নার্স নেতা। তাদের নেতৃত্বে সারাদেশে আন্দোলনে নামে নার্সরা। ওই ঘটনা নিয়েও তারা ৭১ টিভির টকশোতে অংশগ্রহণ করেন। তাদের প্রশ্ন- ওই সময়ে তারা সরকারের অনুমতি নিয়ে টকশোতে অংশগ্রহণ করেননি। এ অপরাধে তখন কেন শোকজ করা হয়নি?

নার্সদের ভাষ্য, নার্সিং সেক্টরে অনিয়ম ও দুর্নীতি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ব্যাপারে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকেও নানা অনিয়মের তদন্ত চলছে। এসব ব্যাপারে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করা ও সত্য কথা বলার অপরাধে তাদের হয়রানিমূলকভাবে এ শোকজ করা হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির বিপরীতে দলের নেতাকর্মীদের ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় বাংলা’ বলার নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এ নির্দেশনার সমালোচনা করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) নেতা মহম্মদ সেলিম বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেটাই নকল করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। চন্দ্রকোনায় মমতার গাড়ি বহরের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ জয়ধ্বনি ঘিরে সূত্রপাত হয় বিতর্কের। এরপর নির্বাচনী প্রচারেও ‘জয় শ্রী রাম’ ইস্যুকে ব্যবহার করে বিজেপি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গ এসে মমতার উদ্দেশে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম দিদি। আমায় জেলে ঢোকান’। মমতা এর জবাবে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম’ বাংলার সংস্কৃতি নয়। বিজেপির স্লোগান তিনি মুখে তুলবেন না। এরপরই ‘জয় শ্রী রাম’র বিপরীতে পাল্টা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানের প্রচার শুরু করেন মমতা। মমতার জয় বাংলা স্লোগান প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘জয় বাংলা’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্লোগান। মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। এরা (মমতার তৃণমূল) আসলে নকল করতে অভ্যস্ত।’ নিমতায় মৃত দলীয় নেতার পরিবারকে দেখতে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও এই স্লোগান ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, প্রথম জয় বাংলা স্লোগান তুলেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মমতার দাবি, বিষয়টা দেশ না, বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com