সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

রিকশাচালকের সততা

নওগাঁ প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ২৫ বার পঠিত

সততার অন্যন্য নজির দেখালেন রিকশাচালক সাজ্জাদ হোসেন। তিন লাখ টাকা হাতের মুঠোয় পেয়েও ফেরত দিলেন টাকার মালিককে। শুধু তাই নয়, টাকা পাওয়ার পর তিনদিন ধরে তিনি মালিককে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। অতঃপর পুলিশের সহযোগিতায় সেই টাকা ফেরত দিয়ে ভারমুক্ত হলেন।

টাকার মালিক আবদুল হাকিম নওগাঁ কেডি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আর সাজ্জাদ হোসেন নওগাঁ শহরে রিকশা চালান।  গতকাল  মঙ্গলাবার রাত ৯টার দিকে  জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুুল মান্নান মিয়ার মাধ্যমে স্কুলশিক্ষককে টাকা বুঝিয়ে দেন সাজ্জাদ। এ ঘটনায় সততার জন্য পুলিশ কল্যাণ ফান্ড থেকে তাকে পুরস্কৃত করারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

এদিকে তিন লাখ টাকা হাতে পেয়েও আত্মসাত না করায় সকলের প্রশংসায় ভাসছেন রিকশা চালক সাজ্জাদ হোসেন। তিনি শহরের জনকল্যাণ হঠাৎপাড়ার ওয়াহেদ আলীর ছেলে।

জানা যায়, গত ৬ই সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে শিক্ষক আবদুল হাকিম পরিবারের সদ্যদের নিয়ে রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশ্যে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় থেকে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় বালুডাঙা বাসস্ট্যান্ড যান। সেখান থেকে রাজশাহীর বাসে ওঠে প্রায় ১ কিলোমিটার যাওয়ার পর তার মনে পড়ে কম্পিউটার ব্যাগের মধ্যে তিন লাখ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রিকশায়  ফেলে এসেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি গাড়ি থেকে নেমে বাসস্ট্যান্ডে এসে রিকশাটি খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সদর থানায় অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পেয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ শহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত সদর থানা, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস, ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল লিমিটেড ও নেক্সাস শোরুমসহ কয়েকটি স্থানের সিসি টিভি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করে ওই রিকশা চালককে সনাক্ত করেন।

এরপর তার নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করে টাকার মালিককে নিয়ে গত  সোমবার রাত ১১টার দিকে ওই রিকশা চালকের বাসায় যান। এ সময় রিকশা চালক সাজ্জাদ হোসেন তার হাতে ১ হাজার টাকার নোটের তিনটি বান্ডিল (৩ লাখ টাকা) তুলে দেন।

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ওইদিন তারা (আবদুল হাকিম ও তার পরিবার) তড়িঘড়ি করে রিকশা থেকে নেমে যান। পরে দেখি রিকশায় একটি ব্যাগ পড়ে আছে। ব্যাগটি বাড়িতে নিয়ে এসে দেখি অনেক টাকা। এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। গরিব মানুষ, টিনের বেড়ার ঘর। টাকাগুলো হারিয়ে গেলে হয়তো বিপদ হবে। এজন্য তিনদিন মুক্তির মোড়ে ঘুরেও টাকার মালিককে পাইনি। এখন টাকাগুলো ফিরিয়ে দিতে পেরে অনেক হালকা লাগছে।

টাকা হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মুহাম্মদ রাশিদুল হক ও লিমন রায় (সদর সার্কেল), সদর থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন, পরিদর্শক (তদন্ত) ফয়সাল বিন আহসান, এসআই ইব্রাহিম হোসেন, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইলিয়াস তুহিন রেজা ও টাকার মালিক আবদুল হাকিম।

পুলিশ সুপার আবদুুল মান্নান মিয়া বলেন, আপনারা সাবধানে সম্পদ বহন করবেন। আমরা ইতিমধ্যে মানিস্কট ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কেউ যদি ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি বহন করতে চান, তাকে পুলিশী পাহারায় পৌঁছে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে কোনও খরচ দিতে হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com