মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

এবার স্কুলছাত্রীর গায়ে আগুন দিলো বোরকা পরা ৪ জন

আনিসুর রহমান
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ জুন, ২০১৯
  • ৭৪ বার পঠিত

এবার রাজবাড়ী সদর উপজেলায় বোরকা পরে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৬) গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। শনিবার সকালে এ ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানায় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা ফজলুর রহমান বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কিশোরী খানখানাপুর তমিজউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। খবর পেয়ে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার ও সদর থানা পুলিশের ওসিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় মামলার আসামি শিল্পীর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু শিল্পী বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। স্কুলছাত্রীর মা নাসিমা বেগম বলেন, ঈদের দিন (বুধবার) স্থানীয় প্রতিবেশী শিল্পী বেগম আমার মেয়ের কাছে অন্য ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ও আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু আমার মেয়ে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে দুই বোন বসে জাম খাচ্ছিল, আমি তখন ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম। এ সময় ছোট মেয়ের চিৎকারে আমার ঘুম ভেঙে যায়। বড় মেয়ের কথা জিজ্ঞাসা করতেই বোরকা পরা চারজন তাকে তুলে নিয়ে গেছে বলে ছোট মেয়ে জানায়। তখন আমিও চিৎকার করতে থাকি। এতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঘরের পেছনের পাটক্ষেত থেকে বড় মেয়েকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. সোহেল ব্যাপারী বলেন, শুক্রবার রাতে নিরাপত্তাহীনতায় থেকে এ ঘটনাটি নিয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেই। কিছুক্ষণ পর রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার পুলিশ পাঠিয়ে থানায় ডেকে নিয়ে বিস্তারিত জেনে আমাকে মামলা করার পরামর্শ দেন। প্রতিবেশী শিল্পীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এর মূল কারণ জানা যাবে। সোহেল ব্যাপারী আরও বলেন, পয়লা বৈশাখের দুইদিন আগে স্থানীয় বাজার থেকে আমার বোন বাড়ি ফেরার পথে কিছু বখাটে গতিরোধ করে নির্যাতন করে। ওই সময় বখাটেরা আমার বোনের সঙ্গে ছবি তোলে। পরে ওই ছবির কথা বলে বোনের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে তারা। বিষয়টি পুলিশকে জানাবে বলায় আমার বোনকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। স্কুলছাত্রীর বাবা ফজলুর রহমান বলেন, আমি ঢাকায় ছিলাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি জানতে পেরে বাড়িতে আসি। বাড়ি এসে জানতে পারি চারজন বোরকা পরে আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে বাড়ির পেছনের পাটক্ষেতে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েকে উদ্ধার করে প্রতিবেশীরা। প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের স্ত্রী শিল্পী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই। আহত স্কুলছাত্রী জানায়, পাশের গ্রামের রাজু নামে এক ছেলে আমাকে পছন্দ করতো। পছন্দের কথা স্থানীয় বাসিন্দা শিল্পী বেগম জানতেন আর এটাকে কেন্দ্র করেই তিনি আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি বিষয়টি পরিবারকে জানালে বৃহস্পতিবার শিল্পী আক্রোশে ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে আমার জামায় আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রতিবেশী সাথী সরকার জানান, চিৎকার-চেঁচামেচিতে আমরাও এগিয়ে গিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করি। তার মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গায়ের জামাকাপড় ছেঁড়া ছিল। পাঁচুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আলমগীর বলেন, এটি ভয়াবহ ঘটনা। এর আগেও ফেনীতে এমন ঘটনা ঘটেছে। এরকম ঘটনা যারাই ঘটাক না কেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, এ ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানায় শিল্পী বেগমসহ অজ্ঞাত চার ব্যক্তির নামে একটি মামলা করা হয়েছে। স্পর্শকাতর এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দুটি দল মাঠে কাজ করছে এবং আসামি ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাবে না। আসামিদের গ্রেফতার করার পর মূল কারণ বলা যাবে। বর্তমানে মেয়েটি সুস্থ আছে। তাকে নিরাপত্তা দিতে সদর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির বিপরীতে দলের নেতাকর্মীদের ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় বাংলা’ বলার নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এ নির্দেশনার সমালোচনা করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) নেতা মহম্মদ সেলিম বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেটাই নকল করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। চন্দ্রকোনায় মমতার গাড়ি বহরের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ জয়ধ্বনি ঘিরে সূত্রপাত হয় বিতর্কের। এরপর নির্বাচনী প্রচারেও ‘জয় শ্রী রাম’ ইস্যুকে ব্যবহার করে বিজেপি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গ এসে মমতার উদ্দেশে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম দিদি। আমায় জেলে ঢোকান’। মমতা এর জবাবে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম’ বাংলার সংস্কৃতি নয়। বিজেপির স্লোগান তিনি মুখে তুলবেন না। এরপরই ‘জয় শ্রী রাম’র বিপরীতে পাল্টা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানের প্রচার শুরু করেন মমতা। মমতার জয় বাংলা স্লোগান প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘জয় বাংলা’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্লোগান। মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। এরা (মমতার তৃণমূল) আসলে নকল করতে অভ্যস্ত।’ নিমতায় মৃত দলীয় নেতার পরিবারকে দেখতে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও এই স্লোগান ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, প্রথম জয় বাংলা স্লোগান তুলেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মমতার দাবি, বিষয়টা দেশ না, বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com