ইংল্যান্ড এদেশ থেকে ৫০০ কোটি পাউন্ড পাচার করে

ইংল্যান্ড এদেশ থেকে ৫০০ কোটি পাউন্ড পাচার করে

এক সময় বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ ছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী ও শিক্ষায় একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. অনুপম সেন। তিনি বলেন, ‘একসময় ইংল্যান্ড পৃথিবীর অর্ধেক শাসন করেছিল। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জার্মান প্রভৃতি ইংল্যান্ডের কলোনি ছিল। বাংলাদেশও ছিল অনুরূপ।’

‘কিন্তু ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজদ্দৌলার পতন ঘটিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন বাংলাদেশকে ইংল্যান্ডের কলোনিতে পরিণত করে, তখন বাংলাদেশ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ। ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি বাংলাদেশকে ইংল্যান্ডের কলোনিতে পরিণত করার মাত্র তিন বছরের মধ্যে এই দেশের তৎকালীন ৫০০ কোটি পাউন্ডের সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার করে।’-যোগ করেন  অনুপম সেন। সেই অর্থ যদি আমাদের দেশে থাকত তাহলে আজ আমাদের মাথাপিছু আয় বিট্রিশদের চেয়ে বেশি হতো।

তিনি বলেন, ভারতবর্ষ বা বর্তমান বাংলাদেশে হাজার বছর ধরে চলমান ছিল গ্রামভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা। গ্রামের একটি বড় শ্রেণি ছিল কৃষক। তাদের জমির মালিকানা ছিল। আবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণি ছিল কারিগর। যেমন কামার, কুমার, ধোপা, স্বর্ণকার। তাদেরও কিছু জমি ছিল। গ্রামের মানুষ স্বনির্ভর ছিল। তারা অন্য কারও কাছে নির্ভরশীল ছিল না। মোগল থেকে শুরু সব আমলে জমিদার ছিল, তবে তাদের কাছে জমির মালিকানা  ছিল না। তারা শুধু রাজার হয়ে খাজনা আদায় করত।

কিন্তু ব্রিটিশরা জমিদারদের জমির মালিকানা দিয়ে দিল। আর তাতে কৃষকরা জমি থেকে উচ্ছেদ হলো। ফলে গ্রামভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে গেল। আর তাতে করে কারিগর শ্রেণি বিলুপ্ত হয়ে গেল। তার ফল ভোগ করল ব্রিটিশরা। তারা এই দেশ থেকে সহজে সম্পদ লুণ্ঠন করতে লাগল। ব্রিটিশদের আগমনের পরেও আমাদের বস্ত্রশিল্প ইংল্যান্ডের চেয়ে উন্নত ছিল। ব্রিটিশরা আমাদের পাট নিয়ে ড্যান্ডিতে জুট মিল করল। ব্রিটিশদের ১৯০ বছরের শাসনের সময় এই ভারতবর্ষ তথা বর্তমানের বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্য ধনী দেশ থেকে গরিব দেশে পরিণত হলো।

তিনি গতকাল মঙ্গলবার নগরের জিইসি মোড়স্থ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২৬তম ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। বিভাগের চেয়ারম্যান সাদাত জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সেন ইংরেজি ভাষা সম্পর্কে বলেন, ‘পৃথিবীর প্রায় ১০০ কোটি মানুষ বর্তমানে ইংরেজি ভাষায় কথা বলে। বিশ্ববাণিজ্যে, বিশ্বের বড়ো বড়ো কম্পানি ও প্রতিষ্ঠানসমূহে ইংরেজি ভাষা ব্যবহৃত হয়।’

২৬তম ব্যাচ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মোহীত উল আলম। আরও বক্তব্য দেন সহকারী প্রক্টর আবদুর রহিম ও সহকারী অধ্যাপক কোহিনুর আকতার। ২৬তম ব্যাচের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ইশতিয়াক হাসান ও উম্মে হাবিবা বৃষ্টি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষার্থী সবুজ ভট্টাচার্য, সাবনিকা হক তিতিল, স্বাগত বিশ্বাস, নাজিফা নিধি ও শুভ দে। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক সুমিত রায় চৌধুরী। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

Comments are closed.

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40