নিয়ন্ত্রণের বাহিরে উত্তরা বিআরটিএর দালাল চক্র

নিয়ন্ত্রণের বাহিরে উত্তরা বিআরটিএর দালাল চক্র
ছবি : রবিউল আলম

সাইদুল ইসলাম :

বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো সার্কেল ৩ অফিসটি উত্তরার তুরাগ থানার ডিয়াবাড়ীতে অবস্থিত। উত্তরার প্রধান সড়ক থেকে কিছুটা দূরত্বে অফিসটির অবস্থান। ভাড়া করা জনৈক ব্যক্তির চার তলা ভবনে চলছে এর কার্যক্রম । ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে গাড়ি রেজিস্ট্রেশনসহ বিরতিয়ের যাবতীয় গ্রাহক সেবা দিচ্ছে।
সময় এবং যাতায়াতের জন্য খরচ একটু বেশি হলেও সেবা প্রত্যাশীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে এটি। ভবনের সামনের সড়কের দুরবস্থা, দালাল চক্র আর ছোট ছোট অব্যবস্থাপনায় সেবা প্রত্যাশীরা কিছুটা বিরক্ত।
চোদ্দ নম্বর সেক্টরের খালপার থেকে অফিস ভবনটিতে পৌঁছানের মূল সড়কটি খানা খন্দ আর নোংরা পানিতে ডুবা,চলাচলের অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টিতে পায়ে হাটাও দায়। যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা বলতে সংস্কারকাজ চলা সেক্টরের নতুন সড়ক।
অব্যবস্থাপনা: ছোট পরিসরে বড় কার্যক্রম। অরক্ষিত সীমানা বা সীমানা নাই বললেই চলে। ভবনের সামনের অংশটি রাজউকের হলেও দখলে রয়েছে স্থানীয় সিন্ডিকেট। এর মধ্যেই ফাঁকে ফাঁকে চলছে মোটরসাইকেল বা অন্যান্য পরিবহনের ফিটনেস, নম্বর প্লেট, ড্রাইভিং পরীক্ষার মতো জটিলসব কার্যক্রম। ভবনটির ভিতরেও একই অবস্থা ।
দালাল চক্র: অফিসটিকে কেন্দ্র করে এর চারপাশে গড়ে উঠা শ’খানেক দোকানপাট কয়েকটি পরিবারের জীবন মানের বেশ পরিবর্তন ঘটিয়েছে বিগত বছর গুলোতে। তেমনি লক্ষ লক্ষ সেবা প্রত্যাশীর চাহিদাও পূরণ করে চলেছে। বর্তমানে দালাল চক্রের উৎপাতে সেবা নিতে আসা সাধারণ গ্রাহক অনেকটাই ক্ষুদ্ধ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে দালাল ছাড়া সেবা পাওয়া আর টিকিট ছাড়া বিমানে চড়ার মতো অবাস্থব। পুরুষ সেবা প্রার্থীরা টাকার বিনিময়ে সেবার দেখা পেলেও জটিলতা বাঁধে নারীদের ক্ষেত্রে।
সাদিয়া নামের এক নারীর অভিযোগ , ড্রাইভিং লাইসেন্স করার বিষয়ে খোজ খবর নিতে আমি অফিসটির সামনে রিক্সা থেকে নামতেই কয়েক ব্যক্তি কিছুটা দৌড়ে এসে জানতে চায় কি কাজে এসেছি? ড্রাইভিং লাইসেন্স করাবো বলতেই একজন বলে উঠে ইমারজেন্সি নাকি? এর মধ্যেই অন্য একজন বলে বসে, অল্প সময়ে করে দিব, আমি নিজে করবো বলতেই, তারা হাস্য মস্করায় মেতে উঠে। এক প্রকার বিরক্ত হয়েই তাকে বিআরটিএ ত্যাগ করতে হয় ঘটনার দিন।
হিরা নামের এক ব্যক্তির অভিযোগ, বিআরটিএ অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা দোকান গুলো কোন কিছুর তোয়াক্কা না করেই মনের মতো ব্যবসা করে যাচ্ছে। বিআরটিএ থেকে দেয়া হয়না এমন কিছু ফর্ম (নাম পরিবর্তন,মালিকানা পরিবর্তন ফর্ম বা কোন কাগজের ফটোকপি,প্রিন্ট বা লেমনে-টিং, মোবাইল লোড, টয়লেট ব্যবহারসহ হোটেলে খাবারের দাম নেয়া হয় কয়েক গুন। বসার কোন স্থান না থাকাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থেকেই সেবা নিতে হয় ।
নির্ধারিত সময়ের পরে সাধারণের কোন ফাইল গ্রহণ না হলেও দালাল মারফত কাজ করিয়ে নেয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে কে গ্রাহক, কে সাধারণ, কে দালাল আর কে ব্যবসায়ী চেনা মুশকিল ।
কাগজ সত্যায়িত বা নোটারি করা এখানে ২০০ টাকার কারসাজি । চোখ বন্ধ করে খুলতে যতটা সময় লাগে তারচেয়ে কম সময় লাগে দালালের দেখা পেতে।
দালালদের কাছেও পছন্দের তালিকায় সার্কেল ৩ এ অফিসটি । কারণ হিসেবে জানা যায়, নির্দিষ্ট সিমানা না থাকাতে যেখানে সেখানে বসেই কাজ চালিয়ে নেয়া যায় তাছাড়া এখানে গ্রহক সংখ্যাও বেশি। আর ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে ধরা পড়ার চিন্তা নাই বললেই চলে।
উত্তরার এই বিআরটিএ অফিসে দুই ধরনের দালালের দেখা পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ এবং স্থানীয়। ভ্রাম্যমাণ দালালদের অভিযোগ লাভ বেশি হওয়াতে এলাকার কিছু মাদকসেবী এবং আশপাশের দোকানিরাও দালালী পেশাকে বেছে নিয়েছে। তাই আমাদের কিছুটা আয় রোজগার কমে গেছে। তাছাড়া মাদকসেবী দালাল, অনেক সময় কাজ না করেই গ্রাহকের টাকা নিয়ে উদাও হয়ে যায় তাতে মাঝেমধ্যে ঝামেলায় পড়তে হয়। তাদের দাবি মাদকসেবী দালালরা স্থানীয় তাই তাদের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে হয়।
দালালীই যাদের পেশা তাদের মধ্যে অন্যতম রেজাউল, শাহিন, খালেক, রাকিব সরকার, হুমায়ুন, মিরপুরের জাহাঙ্গীর, সবুজ, মিজান, বিজয়, সেলিম, সুমন, কামাল, মিরপুরের গুট্র, রুবেল, হাফিজ, সাদ্দাম, পলক, ইমরান, হাবু, ঢাকাইয়া বাবু, সোহেল, মোরশেদ,জনি, টাক্কু বাবু, সাইফুল,জসিম, সাভারের আব্দুল খালেক, হুমায়ুন, বরিশালের লিটন, সাইদুল ইসলাম জীবন, সাকিব, বরকত আলী,আলআমিন, আমির, ডিয়াবাড়ীর হাসান, রহিম,কিরন,মোমিন।

Comments are closed.

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40