ঢাকার সেই ইহুদি ক্লাব

ঢাকার সেই ইহুদি ক্লাব

আজও আছে সেই ঢাকার ইহুদি ক্লাবটি। তবে সেখানে নেই অবসরে মিলিত হয়ে আড্ডা, খেলাধুলা, ধর্মীয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। ভবনের গায়ে শ্বেতপাথরে ‘ফ্রিম্যাসন্স হল-১৯১০’ লেখাটি দেখলে যে কেউ ভাববে ক্লাবটি এখনো চলমান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ নামে ইহুদিদের ক্লাব এখনো রয়েছে বলে জানা যায়। ঢাকায় ক্লাব ভবন আছে, নেই তার কার্যক্রম। বর্তমানে ওই ভবন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ অফিস হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।

জানা যায়, পুরানা পল্টন মোড়ে দোতলা প্রাচীন ভবনটি এক সময় ইহুদি ক্লাব হিসেবে ব্যবহূত হতো, যা ছিল ঢাকাবাসীর কাছে একটি রহস্যময় ক্লাব। ইহুদি সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়া সে ক্লাবে কারও প্রবেশের অনুমতি ছিল না। ৫০ বছর আগেও পল্টনের এ ক্লাবে ইহুদি সম্প্র্রদায়ের লোকজন ভিড় জমাত। ক্লাবের ভিতর চলত তাদের আলাপ-আলোচনা, গোপন বৈঠক, খানাপিনা ও নাচগান। তবে সব কিছুই হতো সতর্কতার সঙ্গে। বাইরে থেকে তার কোনো কিছুই জানা যেত না। যারা এখানে আসতেন তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতেন না। স্বাধীনতাযুদ্ধের পর আর তাদের পল্টনের এই ফ্রিম্যাসন্স ক্লাবে খুব একটা দেখা যেত না। স্বাধীনতার পর ইহুদি ক্লাবটি অনেকটা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। তাদের বেশিরভাগ জমিজমা দখলদারের হাতে চলে যায়। তখন ঢাকায় দু-চারজন ইহুদি বাস করলেও তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতেন। ১৯৮০ সালের দিকে বেশিরভাগ ইহুদিই আমেরিকা কিংবা ইসরায়েলে চলে যান। যাওয়ার সময় ক্লাব ও জমি ঢাকা ডিসি অফিসের বরাবর দলিল করে যান। সেই দলিলসূত্রে ওই ক্লাবের জমিজমা খাস ঘোষণা করা হয়। পরে ক্লাবটিতে রমনা তহসিল অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সেখানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের হিসাবরক্ষণ অফিসের নামে লিজ নেওয়া হয়। প্রধান হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিট সুপার মৃণাল কান্তি এ প্রতিবেদককে জানান, স্বাধীনতার পরপরই ইহুদিরা ঢাকা ছেড়ে চলে যায়। ক্লাব ভবনটি জেলা প্রশাসনের দখলে থাকলেও এর সামনের বেশ কিছু অংশ এখনো বেদখলে। উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ইহুদিদের ক্লাব ফ্রিম্যাসন্স প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭২৯ সালে কলকাতার ফোর্ড উইলিয়াম দুর্গে। ১৭১৭ সালে লন্ডনে ফ্রিম্যাসন্স আন্দোলন শুরু হওয়ার মাত্র দুই বছর পর কলকাতায় এর যাত্রা শুরু হয়। ১৭৫৩ সালে মাদ্রাজে এবং ১৭৫৮ সালে মুম্বাইয়ে এর প্রসার ঘটে। পাকিস্তানে এর শাখা স্থাপিত হয় ১৮৫৯ সালে লাহোর শহরের আনারকলি নামক স্থানে। ১৯০৪ সালের ৪ এপ্রিল ভূমিকম্পে ক্লাবটি ধ্বংস হলে ১৯১৬ সালে পুনর্নির্মিত হয়। এরই মধ্যে ১৯১০ সালে ঢাকায় এর একটি শাখা স্থাপিত হয়। লাহোর ছাড়াও পাকিস্তানের কোয়েটা, মুলতান, শিয়ালকোট, রাওয়ালপিন্ডি ও পেশোয়ারে এর শাখা গড়ে ওঠে। আর ঢাকার পর চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহরে গোপনীয়ভাবে এর কয়েকটি শাখা গড়ে ওঠে। এসব শাখাই তখন ‘গ্র্যান্ড লজ অব ইংল্যান্ড’-এর অধীনে পরিচালিত হতো। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময়ও ঢাকায় বেশ কিছু ইহুদি পরিবার ছিল। এসব পরিবারের সদস্যরা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা পেশায় যুক্ত ছিলেন। কেউ কেউ হোটেল-রেস্তোরাঁও চালাতেন। ঢাকার বনেদি রেস্তোরাঁর জনক ইহুদিরা। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য পি জে হার্টগ জন্মগতভাবে ইহুদি ছিলেন।

Comments are closed.

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40