চ্যালেঞ্জের মুখে ব্রাজিল

চ্যালেঞ্জের মুখে ব্রাজিল

মেক্সিকোর ম্যাচটিতে পাখির চোখ ছিল। কবে, কখন আর কীভাবে ব্রাজিল ফিরবে সেদিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল বুঝিয়ে দিয়েছিল, এই বিশ্বকাপে কেন তারা শিরোপাপ্রত্যাশী। শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর ম্যাচটিতে আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ চোখে পড়েছে। এটা সেই ব্রাজিল যে ব্রাজিলকে সবাই খুঁজে ফিরেছে দীর্ঘদিন। নেইমার খেলেছেন, খেলিয়েছেনও। ব্রাজিলও খেলেছে, ফিরেছে স্বমহিমায়। নেইমারের মাঠে লুটিয়ে পড়া নিয়ে কম কথা ওঠেনি। সেসব অভিযোগের জবাব ছিল দুর্দান্ত। মেক্সিকোকে যেভাবে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিলিয়ানরা, ঠিক সেভাবে বেলজিয়ামকেও উড়িয়ে দিতে চায় পাঁচবার বিশ্বকাপজয়ীরা। এই বিশ্বকাপে ব্যর্থ হতে আসেননি নেইমার। অবশ্য নেইমার ফুটবল খেলেন আনন্দে, ছন্দে, প্রাণের দায়ে। প্রকৃতিগতভাবে পাওয়া প্রতিভা দিয়েই বিশ্ব জয় করে চলেছেন তিনি। ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ এসবের ধার ধারেন না। আসলেও কারো কথা তিনি তো শোনেনই না। নিজের যেটা ভালো লাগে করে চলেছেন।

এখন কোনো দল নিয়ে বেশি বিশ্লেষণে যাচ্ছি না। আমরা আমাদের মতো। পরিকল্পনা করেছি। আর সেভাবে কাজ করব আশা করি। আর তা হলেই সফলতা আসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার দলের চরিত্র হচ্ছে শিল্পে নজর রাখা। আর গোলে নজর থাকে সবার। মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রথম গোলটি দেখুন। কাউন্টার অ্যাটাকে ব্রাজিল ভালো করছে। আমরা ড্রিবলিংয়ে ভালো করেছি। নেইমার, কোটিনহো ও জেসুস। এ ছাড়া উইলিয়ান বলে দখল রেখেছে। এখানে কোনো জাদু নেই। পরিশ্রমের ফল। আমরা নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করেছি। কতটুকু হয়েছে জানি না।’ বেলজিয়ামের সঙ্গে ব্রাজিলের সম্ভাবনা কতটুকু? তিতে বলেছেন, ‘আমি এত পরিসংখ্যান জানি না। আমি শুধু জানি বেলজিয়ামের চেয়ে আমাদের ভালো করতে হবে। আগের দুটি ম্যাচে দেখুন আমরা কী করেছি। এটা আরও একটি চ্যালেঞ্জ। মানের পার্থক্য তো থাকবেই।’ দল সম্পর্কেও কথা বলেন তিতে। দল নিয়ে বলেছেন, ‘আমার দলে যারা আছে সবার ওপর আমার বিশ্বাস আছে। আমার সবাইকে সমান মনে হয়। মার্সেলোর সঙ্গে কথা হয়েছে। সে মনে হয় না খেলতে পারবে। ফেলিপে লুইজ খেলবে আশা করি। তার পরও কাল পর্যন্ত দেখব। যদি মার্সেলো ফিট থাকে তো খেলবে।’ নেইমারের প্রসঙ্গেও কথা উঠেছে। তিতে নেইমারকে নিয়ে আশাবাদ রেখে বলেছেন, ‘নেইমারের সঙ্গী দরকার ছিল। সে সেটা পেয়েছে। ইনজুরি থেকে ফিরে এভাবে খেলা কঠিন। খেলোয়াড়কে সময় দিতে হয়েছে। আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ছোটে নেইমার। আমরা আশা করিনি। বেলজিয়াম খুব দ্রুত খেলে। আমরা ভালো ফুটবল আশা করছি। দুটি ফুটবল দলই আলাদা দর্শনের। তবে গতির ব্যাপারে আপসহীন।’ মিরান্ডা ব্রাজিলকে নিয়ে বেশ আশাবাদী। তবে বেলজিয়ামকে সমীহ করছেন। তিনি বলেন, ‘বেলজিয়ামে শুধু লুকাকুই নেই। আরও অনেক মেধাবী ফুটবলার রয়েছে। ওদের রক্ষণ তো ভালোই মনে হয়েছে। আমাদের দলটি কঠিন ম্যাচের সামনে। কৌশলে বেলজিয়াম এগিয়ে রয়েছে।’ বেলজিয়াম দ্রুত গতির ফুটবল খেলে। ব্রাজিল সেটা জানে ও বোঝে। বেলজিয়ামকে বেলজিয়ামের মতো করে বোঝেন তিতে। কারণ তো সাধারণ, ব্রাজিল লড়াইটা জানে! তিতের ফুটবল দর্শনও ভয়ঙ্কর। এ ব্যাপারে তিনি ব্রাজিলের ফুটবল দর্শন বলে গেলেন। দর্শন সাধারণ। বিশ্বকাপ বড় চ্যালেঞ্জ। আপনাকে সাধারণ থাকতে হবে। পরিবার মনে করতে হবে দলকে। মানসিক লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে হবে। আর অনুশীলনে নজর রাখতে হবে আপনি কী কী করতে পারেন।

Comments are closed.

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40