গাংনীর দেবীপুরে যৌতুকের দাবিতে রাতে স্ত্রীকে নির্যাতন : সকালে ঝুলন্ত লাশ

গাংনীর দেবীপুরে  যৌতুকের দাবিতে রাতে স্ত্রীকে নির্যাতন : সকালে ঝুলন্ত লাশ

মেহেরপুর গাংনী উপজেলার দেবীপুর গ্রামের ফরিদা খাতুন (৪০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করলেও পিতার পরিবারের দাবি নির্যাতন শেষে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার ভোর রাতে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করতে মরদেহ ময়নাতদন্ত করিয়েছে পুলিশ। ফরিদা খাতুন দেবীপুর গ্রামের ময়নাল হকের স্ত্রী ও জোড়পুকুর গ্রামের কিতাব আলীর মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাম্পত্য কলহের জের ধরে ময়নাল হক গত মঙ্গলবার রাতে স্ত্রী ফরিদাকে মারধর করে। ভোরের দিকে নিজ ঘর থেকে ফরিদার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এ সময় ময়নাল ও তার পরিবারের কেউই বাড়িতে ছিলেন না। হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে দিনভর নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে পুলিশ। হত্যাকা- কি-না তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
ফরিদার বড় বোন ফজিলা খাতুন জানান, বছর দেড়েক আগে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে স্বামী ময়নাল ফরিদার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। এতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে নির্যাতন করা হতো। বাধ্য হয়ে পিতা কিতাব আলী ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। অন্যান্য লোকের কাছ থেকে ময়নাল ৩ লাখ টাকা ঋণ করে কাতারে গিয়ে মাস খানেক আগে ফেরত আসে। বিদেশ থেকে ফেরত আসলেই পাওনাদাররা টাকা ফেরত চায়। ওই টাকা পরিশোধের জন্য আবারও স্ত্রী ফরিদাকে চাপ দেয়া হয়। এ টাকা না দেয়ায় ফরিদাকে প্রায়ই নির্যাতন করতো ময়নাল। গত মঙ্গলবার সকালে ফরিদাকে মারধর করলে দুপুরে সে তার খালাতো ভাইয়ের কাছে নালিস করে। এতে রাগান্বিত হয়ে স্বামী ময়নাল হক রাতে সাইকেলের চেইন ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এতে তার বাম হাত ভেঙে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালসিটে দাগ ছাড়াও মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত বের হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে দুই ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
ফরিদার মেয়ে জানায়, রাতে তার পিতা তার মাকে বেধড়ক মারপিট করে বাড়ি থেকে চলে যায়। ভোরে ঘরের মধ্যে মরদেহ দেখতে পায় তারা। তাকে হত্যা করা হয়েছে কি-না তা সে দেখেনি। গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত সাপেক্ষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হরেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে না বিষপানে মৃত্যু তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। অপমৃত্যু মামলা (ইউডি) দায়ের করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করতে মরদেহ ময়নাতদন্ত করানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে যদি হত্যার বিষয়টি ওঠে তাহলে ইউডি মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

Comments are closed.

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40