আজমিরীগঞ্জের সদ্যপ্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান আতর আলী মিয়ার ছেলে আল-আমিন নিহত-

আজমিরীগঞ্জের সদ্যপ্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান আতর আলী মিয়ার ছেলে আল-আমিন নিহত-

আল-আমিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কাকাইলছেও ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক ভূঁইয়াসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে নিহতের ভাইয়ের মামলা ॥ অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধারের পর মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া ও নূরুল হক ভূঁইয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে
এসএম সুরুজ আলী ॥ আজমিরীগঞ্জে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় দু’পক্ষের হামলা পাল্টা হামলায় সদ্যপ্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান আতর আলী মিয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা আল-আমিন মিয়া নিহতের ঘটনায় আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কাকাইলছেও ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক ভূঁইয়াসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের ছোট ভাই আলাউদ্দিন মিয়া বাদী হয়ে আজমিরীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বাদী আলাউদ্দিন মিয়া  এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামীরা আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমরা তাদের শাস্তি দাবি করছি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আতর আলী মিয়া গত ৩০ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর উপজেলা চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গত ১১ জুন এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৪ জুন মনোনয়নপত্র দাখিলের কথা। ২৬ জুন বাছাই, ৩ জুলাই প্রত্যাহার ও ২৫ জুলাই ভোট গ্রহণ। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের ৩ জনের নাম প্রস্তাব করে প্রেরণের জন্য বলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে বর্ধিত সভায় মিলিত হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়ার সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা হাসান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতর আলী মিয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা আল-আমিন ও রানা রায় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নিজেরা প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। কেউই কাউকে ছাড় দিতে রাজি হননি। এ সময় মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া এবং আল-আমিনের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে সভায় হট্টগোল শুরু হলে একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে নেতাকর্মীরা হামলা পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আল-আমিন ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। সাথে সাথে তাকে উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ শিউলী তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ডাঃ শিউলী জানান, আল আমিনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। আল আমিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পক্ষের লোকজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। তারা উপজেলা পরিষদ হলরুমের ভিতরে থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কাকাইলছেও ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক ভূঁইয়াসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের উপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় ভেতরে থাকা নেতাকর্মীরা দরজা বন্ধ করে নিজেদের আত্মরক্ষা করেন। হলরুমের ভিতরে প্রায় ৫/৬ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রাতে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা ঘটনাস্থলে গিয়ে মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া ও নূরুল হক ভূঁইয়াসহ ১১ নেতাকর্মীকে উদ্ধার করে পুলিশ প্রহরায় হবিগঞ্জ নিয়ে আসেন। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা বলেন তাদেরকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করা না হলে আরো অন্তত ১০টি লাশ পড়ত। কারণ আল আমিনের মৃত্যুর খবরের পর তার সমর্থকরা মারমুখী হয়ে উঠেছিল। আল আমিনের মৃত্যু সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা বলেন- আল আমিন হার্টের রোগী ছিলেন। ঝগড়ার সময় হার্ট এ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে, পুলিশ হেফাজতে থাকা মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া ও নূরুল হক ভূঁইয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে পুলিশ প্রহরায় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে আনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কাকাইলছেও ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক ভূঁইয়া ও তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাদেরকে সদর আধুনিক হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অন্যরা সদর থানায় আটক রয়েছেন। তবে তাদের কাউকেই গ্রেফতার দেখানো হয়নি।
এ ব্যাপারে নিহত আল আমিনের লাশের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ দাশ জানান, রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহত আল আমিনের চাচাতো ভাই মো. সাবিন মিয়া জানান, তৃণমূলের ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী মনোনিত করার দাবি করেছিলেন আল-আমিন। এ জন্যই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

Comments are closed.

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40