হাটহাজারীতে বন্যায় পানি বন্ধী লাখ লাখ মানুষ

হাটহাজারীতে বন্যায় পানি বন্ধী লাখ লাখ মানুষ

::মো.আলাউদ্দীন:: 
গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ও পাহাড়ী ঢলের তীব্র স্রোতে পানিতে সৃষ্ট বানের পানিতে হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে পানি বন্ধি হয়ে আছে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ। সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির। এই দুর্যোগকালীন সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার কারনে রাতের আধাঁরে বিভিন্ন এলাকার বন্যা কবলিতরা সাপ-পোকা আতংক সহ ঘরের মালামাল সরাতে পারছেননা বলে জানা গেছে। যাতায়াতের সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় নিত্য প্রয়োজনে হাট-বাজারে আসা যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলা যায়। পৌর সদরের কাচারী সড়কের সোবহান প্লাজা,তৈয়বা নূর কমপ্লেক্স,হাটহাজারী কলেজ গেইটের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় দোকান মালিকরা কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলেও সূত্রে জানা যায়।  এ বন্যা ১৯৬২ সালের বন্যার চেয়েও ভয়াবহ বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে ও স্থানীয় বাসিন্ধাদের মাধ্যমে জানা যায়,হাটহাজারী
উপজেলার ফরহাদাবাদ,ধলই,কাজী পাড়া,হাধুরখীল,পেশকার হাট,মির্জাপুর ইউনিয়ন এলাকার চারিয়া,কাজীপাড়া,ইছাপুর,মোজাফফর পুর,রহিমপুর,জাফারাবাদ,আলমপুর,খীল
পাড়া,চন্দ্রপুর,মিরের হাট,মীরের খীল এবং উত্তর মাদার্শা,দক্ষিণ মাদার্শা,শিকারপুর,বুড়িশ্চর প্রভৃতি এলাকার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার বেশির ভাগ আঞ্চলিক
সড়ক, শত শত ঘরবাড়ি, মাছের পুকুর, পোল্ট্রী ফার্ম বন্যার পানিতে তলিয়ে
গেছে। এছাড়া হাটহাজারী পৌর এলাকার কামালপাড়া, শাহজালালপাড়া, মেহেদী পাড়া.মোহাম্মদপুর, আব্বাসিয়াপুল, মীরেরখীল, আলমপুর এলাকার জনসাধারণসহ প্রায় সবকটি ইউনিয়নে লক্ষ লক্ষ বাসিন্দা পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। হালদার ভাঙ্গনে গুমানমর্দ্দন,লাঙ্গলমোড়া,পৌর এলাকার মুহাম্মদপুর,মেখলের কিছু অংশ,ছিপাতলী,বোয়ালীয়ার কুল,গুমাণমর্দ্দন,নাঙ্গলমোড়া,গড়দুয়ারা ইউনিয়ন এলাকার রাস্তাঘাট পানির নিচে প্রায় তলিয়ে গেছে। হালদা নদীর জোয়ারের তীব্র স্রোতে আশে-পাশের প্রায় এলাকার ঘরের এবং মসজিদের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতের নামায পর্যন্ত আদায় করতে পারেননি বন্যা কবলিত প্রায় এলাকার মুসলিমরা। তাছাড়া যারা এতেকাফে মসজিদে এসেছিলেন তারাও বাধ্য হয়ে ঘরে ফিরে গেছেন। বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকার ঘরে ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ার কারনে রান্না করতে না পারায় অনেক পরিবারের সদস্যরা শুধু মাত্র পানি খেয়ে আবার অনেকেই কিছু না খেয়েও রোজা রাখছেন বলে সুত্রে জানা গেছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাবে সবচেয়ে বেশী কষ্টে আছেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধীক ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,হাটহাজারী পৌর এলাকার মডেল থানার পাশ দিয়ে মরা ছড়াটিকে বর্তমানে উভয় পাশে পাকা দেওয়াল উপরে স্ল্যাব দিয়ে মরা ছড়াটি ছোট একটি ড্রেনের রুপ দেয়ার ফলে বর্তমানে পাহাড়ী ঢল ও হাটহাজারীর বিভিন্ন নালা নর্দমার পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশন হতে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে যার কারনে বিভিন্ন মার্কেটের দোকানে পানি প্রবেশ করছে এবং রাস্তায় পানি থৈ থৈ করছে যা অতীত ৪০/৫০ বছর বয়সের মধ্যে দেখেননি।

এদিকে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক, চট্টগ্রাম হাটহজারী-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক ও হাটহাজারী অক্সিজেন মহাসড়কের ইছাপুর ফয়জিয়া বাজার থেকে জান আলী চৌধুরী বাড়ি,চারা বটতল এলাকা ও সুবেদার পুকুর পাড়,কড়িয়ার দিঘীর পাড়,হাটহজারী-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের মুন্সী মসজিদ এলাকা,সরকার হাটের বালুরটাল এলাকা ও হাটহাজারী অক্সিজেন মহাসড়কের বড়দিঘীর পাড় সহ বেশ কয়েকটি স্থানে মহাসড়কের অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়াতে মহাসড়কে গত দুই দিন ধরে যান চলাচলে সমস্যা সৃস্টি হওয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর জন্য রাস্তায় বের হওয়া সাধারন মানুষদের। গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে যাত্রীদের ঠেলাগাড়ি, নৌকা, তিন চাকাবিশিষ্ট ভ্যান, জীপ ও ট্রাকে করেও চলাচল করতে দেখা গেছে। হাটহাজারী-নাজিরহাট রোডের মুন্সি মসজিদ এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ যানজটও লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে নৌকা যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উপজেলার মেখল ইউপি ভবনের পূর্ব পাশে মনুর দোকান নামক স্থান থেকে হাসিমারপুল প্রতিজন ১০ টাকা সিএনজি ভাড়ার স্থলে সুযোগ সন্ধানী নৌকা মাঝিরা নৌকা ভাড়া প্রতিজন ১৫০/ ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করার খবর পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, প্রবল বর্ষণে হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারনে লক্ষাধিক পরিবার পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। পাহাড়ী ঢলের তীব্র স্রোতে হালদা নদীর পাড় ভেঙ্গে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হালদার ভাঙনে ও জোয়ারের তীব্র স্রােতে এলাকার বাড়ী ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় দূর্ভোগে পড়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। ছিপাতলীকে বন্যার জন্য প্রাকৃতিক দূর্যোগপূর্ন এলাকা ঘোষনা করে, সকল স্কুল মাদ্রাসার দ্বি-তল ভবন খুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন ঐ ইউপির চেয়ারম্যান নুরুল আহছান লাভু। গড়দুয়ারা ৯নং ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যা জানান, ”এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ এখন পানি বন্ধী হয়ে পড়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরে ঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষদের।

এদিকে বন্যা কবলিতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা
শাখার পক্ষ থেকে ১৩ জুন বুধবার উপজেলার মোহাম্মাদপুর,মাইজপাড়া,আলমপুর
রহিমপুর,মোজাফ্ফরপুর,মিরেরখীল চারিয়া সহ কয়েকটি স্থানে ইফতার সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। নাঙ্গলমোড়া, ছিপাতলী ও গুমানমর্দন ইউনিয়নের বন্যার্ত অসহায় মানুষদের ত্রাণ বিতরনের জন্য এয়াকুব ব্রাদার্সের কর্ণধার মো.এয়াকুব কন্ট্রাক্টর গুমানমর্দন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের কাছে একটি ড্যানিস বোট হস্তান্তর করছেন। উত্তর জেলা আ.লীগের সদস্য মঞ্জুরুল আলম চৌধূরী মনজু উপজেলার ইছাপুর,মেখল,কেড়িয়ার দিঘীর পাড়,সুবেদার পুকুর পাড়,সদরের বাস স্ট্যান্ড,ফতেপুর ইউনিয়নের মদনহাট সহ কয়েকটি এলাকায় ত্রান বিতরন করেছেন। উপজেলার ইছাপুর ফয়জিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মো.কালাম বলেন, কি ত্রান দিচ্ছেন,কাকে ত্রান দিচ্ছেন ? যেখানে নৌকার অভাবে এখনও পর্যন্ত
বন্যা কবলিতদের অনেকের ধারে কাছেও যাওয়া সম্ভব হয়নি তাদের কাছে গিয়ে
ত্রান দেয়ার ব্যবস্থা করার দাবী জানাচ্ছি। যেখানে মানুষ দোকানে গিয়ে কেনার মতো পরিস্থিতি আছে,সদরের আশে-পাশে ত্রান দিয়ে জনগনকে বোকা বানাবেন না। নামে মাত্র ত্রান দেয়ার নাটক করার সময় এখন নয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার উননেছা শিউলী সাংবাদিকদের জানান,“ উপজেলা প্রশাসন প্লাবিত এলাকায় দুর্যোগ সৃষ্টি হলে তা মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও জেলা প্রশাসনের নিকট ত্রাণের আবেদন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগ মোকাবেলায় বন্যা কবলিত এলাকার জনগণকে অপেক্ষাকৃত উচু স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে এবং হালদা নদীর পাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত জনগনকে নিরাপদ স্থানে সরে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি যেকোন ধরণের দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে এবং নিম্নলিখিত মোবাইল নম্বরসমূহে যোগাযোগ (০১৮৩৮৬৭২৭৮০,০১৬১৯৮৯৩২৩২) করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

Comments are closed.

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40