বাহারি পণ্যে জমজমাট উত্তরার তাঁত বস্ত্র মেলা

বাহারি পণ্যে জমজমাট উত্তরার তাঁত বস্ত্র মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: 
খুব বেশি দুরে নয় ঈদ । রাজধানীর অভিজাত মার্কেট গুলোতে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে কোন দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই রাজধানীর তাঁত বস্ত্রের হাটগুলো। রাজধানীর তাঁত বস্ত্রের খোঁজ নিতে গিয়ে চোখ পড়ে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টর সোনারগাঁও জনপদ সড়কের পাশে বিশাল খালি মাঠে অবস্থিত তাঁত বস্ত্রেরে মেলার দিকে। ঢাকাইয়া জামদানি,সুতি জামদানি,টাঙ্গাইল তাঁত,বালুচুড়ি, তাঁত প্রিন্টসহ নানান ধরনের শাড়ি। কুমিল্লার খাদির তৈরি তাঁতের ফতুয়া এবং শাট,পাঞ্জাবি। বার্মিজ তাঁত, মনিপুরিতাঁতসহ বিভিন্ন ধরনের থ্রি পিছে পরিপূর্ণ এই তাঁত মেলা। এছাড়াও রয়েছে জাকাতের শাড়ি লুঙ্গী,কসমেটিক্সস,জুতাসহ ঘর সাজানোর নানা আসবাব পত্র।
এই মেলায় তাঁতের পণ্য বিক্রি করতে আসা অংকিত জামদানি হাউজের বিক্রেতা স্বপন জানান, এই স্থানেই ৭ বছর যাবত মেলা করে আসছি। দেশি পণ্যের প্রচার এবং প্রসারের উদ্দেশে প্রতি বছর পহেলা রমজানে শুরু হয়ে ঈদের আগের দিন রাত পর্যন্ত চলে এই মেলা। কিন্তু এ বছর আবহাওয়া সমস্যার কারণে রমজানে বেচা বিক্রিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।মেলায় জেলার ২৫টি এবং দেশের অন্যান্য স্থান থেকে মোট ৪১ টি স্টল বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী নিয়ে অংশ নিয়েছে।
মেলার আয়োজক মিরপুর বেনারসি পল্লির ব্যবসায়ী শাকিল আহমেদ জানান, দেশিয় বস্ত্রশিল্প সামগ্রীর উৎপাদন বাড়াতে ও বাজার সৃষ্টি করতে এ মেলা বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বস্ত্র শিল্পের যে ঐতিহ্য ও সুনাম রয়েছে তা ধরে রাখতে হলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে
মেলায় অন্যতম আরেক বিপণী জান্নাত এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা তুহিন বলেন, গত ঈদের তুলনায় এবার ঈদ উপলক্ষে তাঁতের থ্রি পিছের নতুন নতুন ডিজাইন আসাতে ক্রেতারা তাঁতের থ্রি পিছ কিনছেন বেশি। এছাড়াও বিদেশি পোশাক এবং দেশের তৈরি অন্যান্য পোশাকের তুলনায় তাঁতের তৈরি পোশাক অনেক কম মূল্যে পাওয়া যায় তাই তাঁতের তৈরি পোশাকে আকর্ষণ বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।
মেলায় শাড়ির মধ্যে ঢাকাইয়া জামদানি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। টাঙ্গাইল তাঁত বিক্রি হচ্ছে ৩শ ৫০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা। তাঁত প্রিন্ট বিক্রি হচ্ছে ৩ শ থেকে ৪শ ৫০ টাকা। সুতি তাঁত বিক্রি হচ্ছে ৩ শ ৫০ থেকে ১২ শ টাকা। সুতি জামদানি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ২৫ শ টাকা। তাঁতের কাতান বিক্রি হচ্ছে ৮ শ থেকে ১৮ শ টাকা। আনারস জামদানি বিক্রি হচ্ছে ৮ শ টাকা।
দেশীয় তাঁতের তৈরি লুঙ্গি বিক্রি হচ্ছে ২ শ ৯০ থেকে ১৫ শ টাকা। তাঁতের তৈরি শর্ট পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ৫ শ থেকে ১৫ শ টাকায়। সেমি লং বিক্রি হচ্ছে ১৫ শ থেকে ২৫ শ টাকা। তাঁতের তৈরি থ্রি পিছের মধ্যে মনিপুরী বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা। আড়ং বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা। টাঙ্গাইল বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা। জামদানি ১ হাজার ৫০ টাকা। এছাড়াও ৩ সেট থ্রি পিছ বিক্রি হচ্ছে ১হাজার টাকা।
প্রতি দিন সকাল ১০ টায় শুরু হয়ে মেলা চলে রাত ১০ টা পর্যন্ত। সকালে ক্রেতাদের সংখ্যা কিছুটা কম াকলেও বেলা বাড়ার সাে সাথে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়।
এই মেলার নিয়মিত ক্রেতা আলআমিন ভূঁইয়া জানান, তিনি প্রতি বছর এই মেলায় ঈদ উপলক্ষে তাঁতের তৈরি পোশাক কিনতে আসেন। এবারও তিনি পরিবারের জন্য শাড়ী কিনেছেন। তিনি জানান, এখানে পোশাকে দাম কম বলে প্রতি বছর এ মেলায় আসেন।
বর্তমানে বিদেশি পণ্যে ঈদের বাজার সয়লাব থাকলেও পোশাকের তুলনায় মূল্য অনেক কম থাকায় এবং ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন ডিজাইন আসাতে তাঁতের তৈরি বাহারি ধরনের পোশাকের মাধ্যমে দেশীয় পোশাকের বাজার ধরে রাখা সম্ভব।
দেশীয় তাঁতের পণ্য ও হাতে তৈরি বিভিন্ন ্রব্যের উৎপান এবং বাজারজাত প্রক্রিয়াকে প্রসারিত করেতেই এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানায় আয়োজক কমিটি।মেলায় ৪১ টি স্টলের মধ্যে তাঁত, হস্তশিল্প ও বস্ত্র পণ্যের স্টলের পাশাপাশি শিশুদের খেলনা ও খাবারের দোকানও স্থান পেয়েছে।

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40