মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর “রুপকল্প-২০২১, ডিজিটাল বাংলাদেশ” বিনির্মাণে বড় বাঁধা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর “রুপকল্প-২০২১, ডিজিটাল বাংলাদেশ” বিনির্মাণে বড় বাঁধা

প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ। অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সেই স্বপ্নের কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ের দেড় শতাধিক সহকারী প্রোগ্রামার।

জানতে চাইলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম খায়রুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যাদেরকে প্রকল্প থেকে দয়া করে অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ করলেন সেই তারাই এখন প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাঁধা সৃষ্টি করছেন।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হিসেবে নিয়ম না থাকার পরও প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ ক্ষমতাবলে ২০১৫ সালে কম্পিউটার কাউন্সিলের ২ টি প্রকল্প থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ের সহকারী প্রোগ্রামার পদে অস্থায়ীভাবে ১৮৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগকালীন সময় শর্ত ছিল, এইসকল সহকারী প্রোগ্রামারের চাকরিকাল ৫ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তারা স্থায়ী ও পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হবেন না। অন্যদিকে এই ৫ বছরের আগে সহকারী প্রোগ্রামার থেকে প্রোগ্রামার পদে পদোন্নতি দিয়ে নিয়োগ দিতে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে প্রোগ্রামার পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া যাবে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অধীনে জনবল সংকটের কারণে সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে প্রোগ্রামার পদে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৬ সালে। পরে এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করে গত বছরের ৬ নভেম্বর ৫৬ জনকে জেলা পর্যায়ের জন্য প্রোগ্রামার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। কিন্তু এই সুপারিশের পর পরই সহকারী প্রোগ্রামারদের কয়েকজনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা হলে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগে সুপারিশকৃতদের নিয়োগে আটকে যায়। এভাবে একের পর এক ৮ থেকে ৯ টি মামলা করেছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার সহকারী প্রোগ্রামার নুরুল আমীনের করা হাইকোর্টে এক রিটের পর গত ৬ ডিসেম্বর অধিদপ্তরকে ওই সংক্রান্ত জবাব দিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পরে অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক গত ৮ জানুয়ারীতে হাইকোর্টের জবাবে বিস্তারিত তুলে ধরে এক চিঠিতে বলেন, ‘রুপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইসিটিতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, আইসিটি কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও বেগবান করতে এবং ই-সার্ভিস টেকসই করার জন্য আইসিটি অধিদপ্তরের জনবল বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। জেলা পর্যায়ে প্রোগ্রামার পদ থাকা সত্বেও পদগুলো সম্পুর্ণভাবে ফাঁকা রয়েছে। এতে করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।‘ এরপরও সহকারী প্রোগ্রামাররা একের পর এক মামলা দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম খায়রুল আলম।

মামলা কেন করছেন জানতে চাইলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম খায়রুল আলম বলেন, ‘তাদের দাবি তাদেরকে সহকারী প্রোগ্রামার থেকে পদন্নতি দিয়ে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ দিতে হবে। কিন্তু তাদের নিয়োগের সময় স্পষ্টভাবে শর্তে বলা ছিল, তারা পাঁচ বছর চাকরি করার পরই কেবল স্থায়ী ও প্রোগ্রামার পদে পদোন্নতির যোগ্য হবেন। কিন্তু তাদের তো চাকরি মাত্র ২ বছর। এখন আমাদের প্রচুর জনবল সংকট। জনবল নিয়োগের জন্য পিএসসির মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করে ৫৬ জনকে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলো। কিন্তু তাদের একের পর এক মামলার কারনে এই নিয়োগটি আটকে রয়েছে। তারা আজও একটি মামলা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রীতিমত এ বিষয়টি নিয়ে খুবই বিরক্ত। প্রকল্প থেকে এভাবে কাওকে নেওয়ার নিয়ম নেই। তারপরও প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ ক্ষমতাবলে ১৮৯ জনকে সহকারী প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ সেই তারাই প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে বাধাগ্রস্থ হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তাদের কারণে আমাদের অধিদপ্তরের আরও বেশ কিছু নিয়োগ আটকে রেয়েছে। সেগুলোও এভাবে মামলা দিয়ে আটকরে রাখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যদিও তাদের এসব মামলা টিকবেনা, তারপরও এই যে হেনস্থা করা, নিয়োগে সময়ক্ষেপন করানো। এগুলো ডিজিটাল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বাধাগ্রস্থ করছে।’

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40