একসঙ্গে ৩ প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিলেন জেলা প্রশাসক

একসঙ্গে ৩ প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিলেন জেলা প্রশাসক

কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসন কার্ড ছেপে অতিথিদের নিমন্ত্রণ জানিয়ে ধুমধামের সঙ্গে প্রতিবন্ধী তিন কন্যার বিয়ে দিয়েছে। বুধবার জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় সমাজসেবা অধিদফতর এ বিয়ে দেয়।

কনে ইতি খাতুনের সঙ্গে জিল্লুর রহমান, হাওয়া খাতুনের সঙ্গে সুজন আলী এবং উরুফা খাতুনের সঙ্গে রুহুল আমিন রিন্টুর বিয়ে দেয়া হয়।

এক এক করে বিয়ের গাড়ি কুষ্টিয়া সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের গেটে এসে পৌঁছালে জেলা প্রশাসন ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বরদের বরণ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে নিয়ে আসেন।

বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথিরা একসঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকের নির্দেশে কুষ্টিয়া পৌরসভার ২০ ওয়ার্ডের সরকারি কাজী আব্দুল আজিজ এক এক করে রেজিস্ট্রি করে তিনটি বিয়ে পড়ান।

ইতি, হাওয়া ও উরুফা তিন প্রতিবন্ধী কন্যা। তবে কেউ কারও বোন নয়। প্রত্যেকের বয়স ১৮ বছর পেরিয়েছে। থাকেন কুষ্টিয়া সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে।

উরুফা খাতুনকে ৫ বছর আগে যশোরের আহসানিয়া মিশন থেকে এ কেন্দ্রে আনা হয়। তিনি নাম বলতে পারেন। তবে মা-বাবার নাম বা বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেন না।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নওয়াপাড়া এলাকায় মৃত সাজদী গায়েনের ছেলে রুহুল আমিনের সঙ্গে তার বিয়ে দিয়ে হয়। রুহুল রিকশাচালক। ৬ বছর আগে এ কেন্দ্রে আরও একজন মেয়ের বিয়ে হয়েছিল নওয়াপাড়ায়। তার সূত্র ধরেই রুহুল আমিনের সঙ্গে এ বিয়ে হলো।

হাওয়া খাতুন নামের প্রতিবন্ধী মেয়েটিও ৫ বছর আগে যশোর আহসানিয়া মিশন থেকে এ কেন্দ্রে আসেন। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী। তবে অল্প একটু লিখতে পারেন। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা জানেন না। কেন্দ্রের এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে মেহেরপুর গাংনী উপজেলার মহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা সুজন আলীর সঙ্গে তার বিয়ে দেয়া হয়। সুজন কৃষিকাজ করেন।

আর ইতি খাতুনকে দেড় বছর আগে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলায় পাওয়া যায়। সেখানে এক নারী কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশের মাধ্যমে তাকে এ কেন্দ্রে আনা হয়। ইতি খাতুনও কথা বলতে পারেন না। তবে ইঙ্গিতে সব বুঝাতে পারেন। তবে বাড়ির ঠিকানা জানাতে পারেননি। সেই থেকে এখানেই তার বসবাস ছিল।

সম্প্রতি এক নারী যোগাযোগ করেন ইতিকে তার ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার জন্য। সেই সূত্রে খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের শাহাদত শেখের ছেলে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়া হয়। জিল্লুর ভ্যানচালক।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক জহির রায়হান বলেন, একটি মেয়ের বিয়েতে পরিবারের সদস্যরা যেরকমভাবে থাকে ঠিক একইভাবে তিন মেয়ের পাশে ছিল জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তিন মেয়েকে একসঙ্গে বিয়ে দিলাম এটি আমার জন্য অনেক খুশির বিষয়।

সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সহকারী ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান বলেন, গত রোববার কেন্দ্রে তিন মেয়ের একসঙ্গে গায়ে হলুদ দেয়া হয়। সেই সঙ্গে বরযাত্রী ও অতিথিদের খাওয়া-দাওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ হয়। বুধবার বিয়ে হয়। আলোচিত এই বিয়েতে প্রত্যেক বরের সঙ্গে ১৫ জন করে যাত্রী অংশ নেন।

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40