গোপীনাথপুর স্কুলে ফলাফল বিপর্যয়

গোপীনাথপুর স্কুলে ফলাফল বিপর্যয়

মো. সাইদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট :

ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে রয়েছে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী।
এ বছর এস এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৯৬ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে পাস করে মাত্র ৮৭ জন। পাশের হার ৪৪.৩৯ ভাগ। যা অতীতের প্রায় সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে। জিপিএ-৫ রয়েছে শূন্যের কোটায়। এমন ফলাফলে হতবাক পুরো এলাকাবাসী সহ সর্বস্তরের জনগন। উত্তেজনা বিরাজ করছে সকল ছাত্র সমাজে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়ে প্রধান শিক্ষক সহ পরিচালনা কমিটির পদত্যাগ দাবী করছেন অনেকেই।

এলাকার ফেসবুক ব্যবহারকারী Hafizur Rahman Raju নামে তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট করেন। তিনি লিখেছেন, “সবাই শুধু নিজেদের পেট ভরার চিন্তা করার কারনে আমাদের স্কুলের রেজাল্ট এই অবস্থা। অশিক্ষিত ও পেটুক ম্যানেজমেন্ট যারা বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা, এবং তাদের সহযোগী কিছু সুবিধাদি শিক্ষক এর জন্য দায়ী। সাথে অভিভাবকরাও এ দায় এড়াতে পারবেনা।” পরবর্তি আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেন, “পোস্টটি তুলে ধরা হলো- তিনি লিখেছেন, “গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ, পরিচালনা কমিটির সকল সদস্যদের পদত্যাগ দাবি করছি।”

অন্য একজন Borhan Uddin Bhuiyan তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, “#গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ্য বিদ্যালয়ের এই রেজাল্টের জন্ন্য দায়ি কে??
#অতীতের সব রেকর্ড ভেংগে দিল।।।”
তার এই পোস্টে Sayem Sarkar কমেন্টে লিখেছেন, “আমাদের স্কুল দুনিয়ার সেরা-সেরা শিক্ষক এবং সবচেয়ে বেস্ট স্কুল কমিটি দিয়ে পরিচালিত হয় তাই এমন রেজাল্ট…. #লজ্জা”

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতির সাথে কথা বললে তিনি প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্য সদস্যদের দায়ী করেন। প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের অমনোযোগিতা, পরীক্ষার হলে অতিরিক্ত পরিদর্শক রেখার ফলে শিক্ষার্থীদের ভীতি তৈরী হওয়া সহ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদকে দায়ী করেন।” যেনো একে অপরকে দুষারোপ এর ছুড়াছুড়ি চলছে।

অন্যদিকে বেশকিছু অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, পড়ার নামে এই বিদ্যালয়ে চলে টিউশন বানিজ্য। যার ফলে দিন দিন খারাপ ফলাফল করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের অভিবাবক প্রতিনিধি যারা নির্বাচিত হয় তাদের অধিকাংশই স্কুলের গন্ডি পার হয়নি, এমন ব্যাক্তিদের হাতে এমন ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বকে কেউ কেউ দায়ী করছেন। তারা জানায় অভিলম্বে এর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা না নিলে আরো খারাপের দিকে যাবে বিদ্যালয়ের অবস্থান। এর জন্য গ্রামের সকল শ্রেণির মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোচ্চার হবার অাহ্বান জানান অনেকে।

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40