আগে খালেদার মুক্তি, পরে আলোচনা

আগে খালেদার মুক্তি, পরে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, আগে খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। পরে অন্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।’

আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা এখন একটা দাবি নিয়ে কথা বলছি। সেটা হচ্ছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। এ ছাড়া কোনো কিছু নিয়ে ভাবছি না। আগে তিনি মুক্তি পান। তার পরে অন্য বিষয়ে কথা ভাবব। এ ছাড়া এখন আর কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই না।’

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। সে জন্য তারা যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত। নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে দরকার হলে দেশ পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে পারে তারা।’

খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে তাঁকে কারাগারে আটকে রেখেছে। সরকারের কম করে হলেও এক ডজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনজন মন্ত্রী আছেন, যাঁরা দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়েও মন্ত্রী পদে বহাল আছেন।’

অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ দেশে কেউ মুখ খুলতে পারে না। সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললে হা-মীম গ্রুপের এ. কে. আজাদের মতো বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। শফিক রেহমানের মতো মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হবে। তাই বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারবে না। সরকার যা করবে, যা বলবে তার বিরুদ্ধে চুপ থাকতে হবে। কোনো প্রশ্ন করা যাবে না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজ দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃসময়, যা আমাদের জাতীয় জীবনে আর কখনো আসেনি। এ দুঃসময় শুধু বিএনপি বা খালেদা জিয়ার নয়। এটা গোটা জাতির দুঃসময়। তাই সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে; অপশাসনের পতন ঘটাতে হবে।’

এ সময় তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু ফেসবুকে দু-একটি কথা বললেই হবে না। রাজপথে নেমে আসতে হবে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘দুর্বলতা কোনো কিছু জয় করতে পারে না। দুর্বলতা মানে মানসিক দুর্বলতা। মনকে শক্তিশালী করুন, না হলে কোনো কিছু জয় করতে পারবেন না। যদি মনে করেন, এরা সব নিজেদের দখলে নিয়ে গেছে, সামনে নির্বাচনও করে ফেলবে, আমাদের কী হবে? তাহলে আপনারা বিজয়ী হতে পারবেন না। তাই মানসিক শক্তিতে শক্তিশালী হন। কারণ, এরা মানুষের ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে।’

রোহিঙ্গা বিষয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন ‘সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ একটি আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত একজনকেও মিয়ানমার ফেরত নেয়নি। এই হচ্ছে আমাদের সফল পররাষ্ট্রনীতি, সফল প্রধানমন্ত্রীর সফলতা!’

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40