আ. লীগের আরও দুই সাংসদকে তলব

আ. লীগের আরও দুই সাংসদকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির আট নেতার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের নিয়ে দলটির সমালোচনার মুখে থাকা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আওয়ামী লীগের আরও দুই জন সংসদ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে ক্ষমতাসীন দলের তিন জনকে ডাকল দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

 বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে এই দুই সংসদ সদস্যকে ডাকা হয়। এদের মধ্যে নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খানকে ১১ এপ্রিল এবং খুলনা সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানকে ১৬ এপ্রিল হাজির হতে বলা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মঞ্জুর মোর্শেদ ওই তলবি নোটিশ দিয়েছেন। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য ঢাকাটাইমসকে এই বিষয়টি জানিয়েছেন।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, সরকারদলীয় দুই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেই অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়েছেন তারা। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এর অংশ হিসেবেই তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ডাকা হয়েছে।

যে দুইজনকে ডাকা হয়েছে তাদের মধ্যে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আছে। তিনি সিটি করপোরেশন থেকে উন্নয়ন কাজের দরপত্র পেয়ে কাজ না করে টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। এ ছাড়া মাদক চোরাকারবারিদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগও রয়েছে মিজানের বিরুদ্ধে।

জানতে চাইলে মিজানুর রহমান  বলেন, ‘আমি এখনও কোনো চিঠি পাইনি। তবে চিঠি পেলে সময়মতো হাজির হব।’ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান  বলেন, ‘অসম্ভব। এসব হতেই পরে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমি সব বৈধ কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়ে সব অভিযোগের জবাব দেব।’

অন্যদিকে নরসিংদীর সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফের সার ব্যবসা রয়েছে। সরকারি সার অবৈধভাবে বিক্রির মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করে তিনি গাড়ি বাড়ি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কামরুল আশরাফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে গত বছরের মে মাসে যে ১৪ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন তাদের মধ্যে আশরাফও ছিলেন।

গত ২ এপ্রিল ১২৫ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়ে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়ার মিণ্টু, তার ছেলে তাবিথ আউয়াল, এম মোর্শেদ খান এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। মোর্শেদ খানের ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খান এবং ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে এই অনুসন্ধান।

দুদকের এই সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি দাবি করেছে, সরকারের নির্দেশে হয়রানির জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। তবে দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করছে জানিয়ে সংস্থাটিকে কোনো ধরনের চাপ দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুদক তাদের দলের নেতা, সংসদ সদস্যদেরও তলব করছে। কাদের এই বক্তব্য দেয়ার দিনই দুদক আওয়ামী লীগের দুই সংসদ সদস্যকে তাদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়ে স্বশরীরে তাদের বক্তব্য চাইল দুদক।

আগের দিন প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঝালকাঠি-১ আসনের বজলুল হক হারুনকে (বিএইচ হারুন) তলব করে দুদক। তিনিও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। তাকে সংস্থাটিতে হাজির হতে হবে ১১ এপ্রিল।

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40