প্রতিটি জেলায় এসএমই পরামর্শ কেন্দ্র করা হবে

প্রতিটি জেলায় এসএমই পরামর্শ কেন্দ্র করা হবে

(বাসস )

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার দেশের সব জেলা-উপজেলায় এসএমই পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করবে। যেগুলো এসএমই শিল্পের প্রসারে উদ্যোক্তাদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সেবা প্রদান করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে জেলা ও উপজেলায় এসএমই পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ পরামর্শ কেন্দ্রগুলো এসএমই শিল্পের প্রসারে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার হিসেবে কাজ করবে।’

উদ্যোক্তারা ব্যবসা স্থাপন থেকে শুরু করে ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা, পরামর্শক সেবা ইত্যাদি এই ওয়ান স্টপ সেন্টার থেকে গ্রহণ করতে পারবেন বলেও শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি বিভাগীয় শহরে প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় ষষ্ঠ জাতীয় এসএমই মেলা-২০১৮-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির লিখিত ভাষণে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শারীরিক অসুস্থতার দরুন তাঁর ভাষণ প্রদান করেননি। এর পরিবর্তে তাঁর ভাষণের লিখিত কপি অনুষ্ঠানে বিতরণ করা হয়।

বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে এসএমইর গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসএমই সবচেয়ে শ্রমঘন ও স্বল্প পুঁজিনির্ভর খাত হওয়ায় এই খাতের মাধ্যমে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। আমাদের দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ শিল্পই ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের অন্তর্ভুক্ত। তাই জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ। জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ।’

এসএমই ফাউন্ডেশন এবং এফবিসিসিআই যৌথভাবে আজ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজক। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু সভাপতিত্ব করেন। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, শিল্প সচিব মো. আবদুল্লাহ এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কে এম হাবিবুল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সফল এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে পুরস্কারও বিতরণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সদস্য এবং ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে কুটির শিল্পের সুদীর্ঘ গৌরবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যবাহী জামদানি, নকশিকাঁথা এবং সিলেটের শীতলপাটি ইতোমধ্যে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-তালিকায় স্থান পেয়েছে।’

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিভিন্ন দেশের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্তকরণ এবং পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

সরকারপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, এসএমই মেলা দেশে উৎপাদিত এসএমই পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রেতা আকর্ষণ ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ধরনের মেলা আয়োজনের মাধ্যমে এসএমই খাতের অনেক সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হবে এবং যথাযথ স্বীকৃতি পাবে।

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40