ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি হামলার নিন্দা

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি হামলার নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

পূর্ব জেরুজালেম: গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ইসরাইলি সহিংসতার ঘটনায় তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশ নিন্দা জানিয়েছে।

শুক্রবার ভূমি দিবসে টানা ছয়দিনের বিক্ষোভের প্রথমদিনে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত ও সহস্রাধিক আহত হয়েছেন।

ইসরাইলের এই সহিংসতার জানিয়েছে তুরস্ক, কুয়েত, কাতার, মিশর, মরক্কো ও আরব লীগ।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলি সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি যেদিন ফিলিস্তিনিরা স্বাধীনতা ও স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জন করবে।

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে কুয়েত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা এ খবর দিয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘কুয়েত অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে প্যালেস্টাইনি বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলের নৃশংস হামলার প্রতিবেদনগুলি পর্যবেক্ষণ করছে।’

এতে বলা হয়, ‘ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক প্রতিবিধানের অবাধ্যতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের লঙ্ঘন।’

কোনার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তা পরিষদকে তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে এবং অবিলম্বে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি দমনমূলক প্রচেষ্টা মোকাবেলা করার জন্য কুয়েত নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানিয়েছে।

পৃথক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও ইসরাইলের আক্রমণের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।

এছাড়াও ইসরাইলি বর্বরতার নিন্দা জানিয়েছেন মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত।

এদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেজ শুক্রবার গাজায় ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি বাহিনীর রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনায় স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সংযম প্রদর্শনের জন্য উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিরাপত্তা পরিষদ সদস্যরা।

ভূমি দিবস উপলক্ষে টানা ছয়দিনের বিক্ষোভের প্রথমদিনে ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর গুলিতে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হন।

শুক্রবার গাজার ইসরাইল সীমান্তের ছয়টি স্থানে এই বিক্ষোভ হয়। ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের এই বিক্ষোভ চলাকালে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরো কমপক্ষে ১৪০০ মানুষ আহত হয়েছেন। আর নিহতদের স্মরণে শনিবার একদিনের শোক ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, নিরাপত্তা পরিষদ কোনো সমঝোতায় আসতে না পারায় নিজের হতাশা ব্যক্ত করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি গণহত্যার ঘটনায় নিন্দা জানাতে নিরাপত্তা পরিষদের একমত না হওয়াটা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাশা নিরাপত্তা পরিষদ যথাযথভাবে তার দায়িত্ব পালন করুক এবং এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে প্রশমিত করতে প্রদক্ষেপ নিক। ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ড পরিষ্কারভাবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।’

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরাইলি সেনাদের হাতে নিহতদের মধ্যে অল্প বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোরও রয়েছে।

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এই সহিংসতার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে। হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহ বলেছেন, তারা এক ইঞ্চি ফিলিস্তিনি জমিও ইসরাইলের কাছে ছাড়বেন না।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের কোনো বিকল্প নেই এবং আমাদের ফিরে যাওয়ার অধিকার ছাড়া এই সংকটের কোনো সমাধান নেই।’

গাজা-ইসরাইল সীমান্তে সব সময় ইসরাইলের কড়া সামরিক পাহারা থাকে। সেখানে ইসরাইল তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে।

ফিলিস্তিনিরা প্রতি বছরের ৩০ মার্চকে ‘ভূমি দিবস’ হিসেবে পালন করে। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ফিলিস্তিনিরা যখন তাদের জমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি সৈন্যদের গুলিতে ছ’জন নিহত হয়।

ছ’সপ্তাহ ব্যাপী এই বিক্ষোভ শেষ হবে আগামী ১৫ মে, যেদিনটিকে ফিলিস্তিনিরা ‘নাকবা’ কিংবা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করে। ১৯৪৮ সালের ঐ দিনে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর ফেলে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর।

ফিলিস্তিনিরা বহু দশক ধরে ইসরাইলে তাদের ফেলে আসা বসত বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার দাবি করছে। কিন্তু ইসরাইল এই অধিকারের স্বীকৃতি দেয়নি।

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::

More News...

Fatal error: Call to undefined function tie_post_class() in /var/sites/s/sorejominbarta.com/public_html/wp-content/themes/bdsangbad_magazine_themes/includes/more-news.php on line 40